1. admin@protidinshikhsha.com : protidinshiksha.com :
মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:২৬ অপরাহ্ন

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে যা করছে স্কুলগুলো

  • প্রকাশিত শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা ডেস্ক: করোনাকালে বিশেষ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পরীক্ষার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে বরিশালসহ দক্ষিণের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো।

এক্ষেত্রে জনপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। অথচ মন্ত্রণালয় থেকে আসা চিঠিতে বলা হয়েছে, অ্যাসাইনমেন্ট অনুযায়ী মেধা যাচাইয়ের কথা।

তা-ও আবার বাড়িতে থেকে সেই মেধা যাচাইয়ে অংশ নেবে শিক্ষার্থীরা। স্কুলে গিয়ে সিলেবাস আর নমুনা প্রশ্নপত্র নিয়ে আসবেন অভিভাবকরা।

এভাবে টাকা তোলার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস।

এ ব্যাপারে বোর্ড কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি স্থগিত করব আমরা। করোনার কারণে মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সর্বশেষ দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত খুলবে না স্কুল-কলেজ। ক্লাস বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের শ্রেণি উন্নয়ন প্রশ্নে মেধা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয় সরকার।

৩১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দেশনা পাঠানো হয় সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ৬ সপ্তাহে ৬টি মেধা যাচাই পরীক্ষার পাশাপাশি সিলেবাস নির্ধারণ এবং প্রশ্নের নমুনাও দিয়ে দেয়া হয় নির্দেশনায়।

মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে অভিভাবকদের ডেকে সিলেবাস এবং নমুনা প্রশ্ন বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ৬ সপ্তাহে ৬টি অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করে জমা দিতে বলা স্কুলে।

এক্ষেত্রে স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়, শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসে অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করবে এবং অভিভাবকরা তা স্কুলে জমা দেবে।

সবকিছু এভাবে স্পষ্ট থাকলেও ওই চিঠির সূত্র ধরেই বরিশালসহ দক্ষিণের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় শুরু হয় পরীক্ষার ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়।

করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে শিক্ষার্থীদের সুস্থ থাকা নিশ্চিত করতে স্কুল বন্ধ রেখেছে সরকার, সেখানে টাকা তোলার জন্য অনেক বিদ্যালয় অভিভাবকদের না ডেকে শিক্ষার্থীদের যেতে বলছে স্কুলে।

কোমলমতি এসব শিশুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে বাধ্য করা হচ্ছে অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা আনতে।

বরিশাল সদর উপজেলাধীন কড়াপুর এলাকার পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, স্কুল থেকে ফোন করে আমার মেয়েকে প্রথমে বিদ্যালয়ে যেতে বলা হয়।

সেখানে যাওয়ার পর বলা হয় ২ হাজার ৮০০ টাকা দিতে। মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি এসেছে উল্লেখ করে স্কুলের এক শিক্ষিকা বলেন, পরীক্ষার ফি এবং বকেয়া যত পাওনা আছে তা মিলিয়ে এই টাকা দেয়া না হলে পরীক্ষা দেয়া যাবে না।

একই বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে উপবৃত্তি পায়। তাকে বলা হয়েছে উপবৃত্তির ২ হাজার টাকা বাদ দিয়ে ৮০০ টাকা দিতে।

বরিশাল নগরীর জগদীশ স্বারস্বত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, পরীক্ষার কথা বলে ১ হাজার ৮০০ টাকা চাওয়া হয়েছে আমার মেয়ের কাছে।

নগরীর দলিলউদ্দিন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাবা বলেন, ২ হাজার ১০০ টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে আমাকে।

আমি সামান্য চা দোকানি। করোনার কারণে এমনিতেই সংসার চালানো মুশকিল। এখন এই টাকা আমি কোথা থেকে দেব?

কেবল বরিশালই নয়, বিভাগের অন্য জেলা-উপজেলাগুলো থেকেও পাওয়া গেছে পরীক্ষার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ।

পটুয়াখালীর বাউফলে থাকা এমপিওভুক্ত ৬১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সবকটিতেই শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া। পরীক্ষার পাশাপাশি বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য পাওনার কথা বলে টাকা নিচ্ছে বিদ্যালয়গুলো।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাট এলাকার একটি বিদ্যালয়ে টাকা নেয়া হচ্ছে ‘যে যা দিতে পারে’ ভিত্তিতে। ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুর এবং ভোলার স্কুলগুলোয়ও চলছে টাকা তোলা।

কোথাও কোথাও টাকা না দিলে পরীক্ষা দেয়া যাবে না বলে দেয়া হচ্ছে হুমকি। হঠাৎ এত টাকা চাওয়ায় মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্র শ্রেণির অভিভাবকরা পড়েছেন মহাবিপদে।

এভাবে টাকা তোলার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে শুরুতেই পরীক্ষার নাম করে টাকা চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর প্রধানরা।

পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, যারা উপবৃত্তি পায়, তাদের কাছ থেকে কোনোরকম টাকা নেয়া হচ্ছে না। একই দাবি করেন জগদীশ স্বারস্বত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম।

তবে বাউফলের কালিশুরী এসএ ইন্সটিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান এবং বাউফল আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ বলেন, দীর্ঘ ৮ মাস বিদ্যালয়ের কোনো আয় নেই।

এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে কাউকে বাধ্য করছি না আমরা।

যারা সামর্থ্যবান, কেবল তাদের কাছ থেকেই টাকা নেয়া হচ্ছে।

বরিশাল নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, করোনাকালে মানুষ এমনিতেই বিপদে আছে।

এরকম সময়ে একসঙ্গে ৭-৮ মাসের বেতন চাওয়া অমানবিক। তাছাড়া এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়গুলো সরকারের কাছ থেকে বেতনের সিংহভাগ পায়।

বিদ্যালয় ভবন নির্মাণসহ আরও অনেক সহায়তা দেয় সরকার। সেখানে এভাবে টাকা তোলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বিষয়টি নিয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিদ্যালয়গুলোকে হুশিয়ারি দিয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এভাবে টাকা তোলার কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি স্থগিত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
২০২০ প্রতিদিন শিক্ষা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার

প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার